ভালোবাসার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার গল্প—বইমেলায় এডভোকেট সরোয়ারের ‘ভালোবাসার মিসকল’


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ / ৯৭
ভালোবাসার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার গল্প—বইমেলায় এডভোকেট সরোয়ারের ‘ভালোবাসার মিসকল’
Spread the love

 

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী এম এ আজিজ স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে চলমান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ তৃতীয় চোখ প্রকাশনার স্টলে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত উপন্যাস “ভালোবাসার মিসকল”-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।

 

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ঘিরে বইপ্রেমী, লেখক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল করিম কচি, আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃতীয় চোখ প্রকাশনার প্রকাশক মোঃ আলী প্রয়াস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইআইইউসি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল হাসান অনু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ এম মুন্না চৌধুরী, সাংবাদিক এমকে মনির, লেখকের সহধর্মিনী নাজমা আরা সরোয়ার, লায়ন হালিমা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইসরাত জেরিন পাপিয়া, অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন অভি, নার্গিস আক্তার নিশি, ফাতেমা তুজ জোহরা, মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন, জেবুন্নেছা সহ অসংখ্য পাঠক-লেখক।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল করিম কচি বলেন, “বর্তমান সময়ে সাহিত্যে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা উপন্যাসের চাহিদা বাড়ছে। ‘ভালোবাসার মিসকল’ সেই ধারার একটি শক্তিশালী সংযোজন, যা পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।”

 

লেখক মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু তার বক্তব্যে বলেন, “এই উপন্যাসটি আমার জীবনের অনুভূতি, সংগ্রাম ও উপলব্ধির প্রতিফলন। আমি বিশ্বাস করি, জীবনের সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না, কিন্তু প্রতিটি ভালোবাসা মানুষকে কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়।”

 

 

প্রকাশক মোঃ আলী প্রয়াস বলেন, “এই বইটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, এটি জীবনের বাস্তবতা, হারানো ভালোবাসা এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার এক অনন্য দলিল।”

 

লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এ এম মুন্না চৌধুরী বলেন, “লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির গভীরতা এই উপন্যাসে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা পাঠকদের সাথে সহজেই সংযোগ স্থাপন করবে।”

 

পাঠক প্রতিনিধি হিসেবে নার্গিস আক্তার নিশি বলেন, “গল্পের প্রতিটি স্তর আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মিলে যায়। বিশেষ করে প্রথম প্রেমের অপূর্ণতা ও পরবর্তীতে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী।”

উপন্যাস “ভালোবাসার মিসকল”-এর মূল ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এমন এক বাস্তবতার উপর, যেখানে সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না। গল্পের শুরুতে এক তরুণ ছাত্রের আন্তরিক প্রেম সামাজিক ও পারিবারিক কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা তার জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করে। তবে সেই কষ্ট তাকে ভেঙে না দিয়ে বরং নতুনভাবে গড়ে তোলে—সে আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।

 

সময়ের পরিক্রমায় তার জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন ঘটে, যার মাধ্যমে সে খুঁজে পায় জীবনের স্থিরতা ও শান্তি। অনেক বছর পর পুরনো প্রেমিকার সাথে পুনরায় যোগাযোগ হলেও সেখানে নতুন কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না; বরং অতীত স্মৃতি হিসেবেই থেকে যায়।

 

উপন্যাসটির নামের মধ্যেই একটি গভীর প্রতীক নিহিত রয়েছে—যেমন একটি “মিসকল” শুধু একটি ক্ষণিক ডাক, তেমনি জীবনের কিছু ভালোবাসাও ক্ষণস্থায়ী হয়ে স্মৃতির পাতায় রয়ে যায়।

 

সবশেষে, উপন্যাসটি এই বার্তাই দেয়—প্রথম প্রেম মানুষকে স্মৃতি দেয়, কিন্তু প্রকৃত জীবনসঙ্গী মানুষকে দেয় স্থায়ী শান্তি ও পূর্ণতা।

Translate »