চট্টগ্রাম বার নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক হলেন এডভোকেট সরোয়ার লাভলু


প্রকাশের সময় : মে ২২, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ / ১৮
চট্টগ্রাম বার নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক হলেন এডভোকেট সরোয়ার  লাভলু
Spread the love

 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এডভোকেট তারিক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত পূর্ণ প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে।

 

এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিশিষ্ট আইনজীবী, সংগঠক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলুর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২১টি পদের মধ্যে অধিকাংশ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ক্রীড়া সম্পাদক পদে তার বিপক্ষে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র পর্যন্ত সংগ্রহ করার সাহস দেখেননি। আদালতপাড়ায় ব্যাপকভাবে আলোচনা রয়েছে যে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং আইনজীবীদের মাঝে শক্ত অবস্থানের কারণে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট রোশনারা বেগম এবং নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ যথাক্রমে এডভোকেট মোঃ ইব্রাহিম, এডভোকেট মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, এডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শাহিন ও এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত তফসিলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের সময় নির্ধারণ করা হয়।

 

তফসিল অনুযায়ী ৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের সময় নির্ধারিত ছিল।

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এডভোকেট তারিক আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট সেলিনা খানম, সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী, সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ মইনুদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট আবুল মনসুর শিকদার, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট হোসেন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে এডভোকেট আলী আকবর, এডভোকেট দিদারুল আলম, এডভোকেট দিলদার আহমদ ভূঁইয়া, এডভোকেট ইকবাল হোসেন, এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান, এডভোকেট মোক্তার উদ্দিন, এডভোকেট মোমাইনুল হক, এডভোকেট সাদিয়া খান, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও যথাযথভাবে জমা প্রদান করেন।

 

অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১ জন প্রার্থীর পক্ষে সমন্বয়কারী এডভোকেট মোঃ শামসুল আলম একযোগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সভাপতি পদে সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট সাইফুদ্দিন মানিক, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট মিশুক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট আজিমউদ্দিন লাভলু এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন আজাদের পক্ষে আংশিক টাকা চেকের মাধ্যমে এবং বাকি টাকা নগদে জমা দেওয়ার শর্তে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে যে, জামায়াত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রার্থীগণ নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জমা প্রদান করেন এবং চেকের বিপরীতে প্রদেয় ৫৩ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে নগদে জমা দেননি।

 

পরবর্তীতে ৫ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়া এবং চেক সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

 

৬ মে আপিলের সুযোগ থাকলেও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিকট কোনো আপিল বা আপত্তি দাখিল না করে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে ৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং ১৮ মে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থী পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এরই মধ্যে ১৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে জামাত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ১৬৬ জন আইনজীবীর স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনের মাধ্যমে বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে তলবী সভার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তলবী সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় তলবী সভার পক্ষে ১৭১ জন এবং বিপক্ষে ২৮৯ জন আইনজীবী ভোট প্রদান করেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়।

 

এদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীগণ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত ২০ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন।

 

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদের ১টি এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১টিসহ মোট ১২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বমোট ৪৫৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ২১৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

 

ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থীগণ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। সভাপতি পদে এডভোকেট তারিক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন প্যানেল আইনজীবীদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে নির্বাচনে বিজয়ী হন।

 

এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বর্তমানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায়), চট্টগ্রাম বিভাগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন , তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র লিগ্যাল এইড কমিটি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মানিত সদস্য এবং উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আইনজীবী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন।

 

তিনি দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের একজন সক্রিয় সদস্য। আদালতপাড়ার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আইন আদালত প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। পাশাপাশি তিনি দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার আইন সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক রায়ান্ন-এর নির্বাহী সম্পাদক পদমর্যাদায় বিশেষ প্রতিবেদক এবং দৈনিক ভোরের চেতনার আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

 

এর আগে ২০২১ সালে তিনি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সরাসরি নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করে আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

 

সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক “চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক” পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বঙ্গবীর ওসমানী গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড এবং আন্তর্জাতিক গ্লোবাল চেঞ্জ মেকার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

 

আইনজীবী মহলের অনেকেই মনে করেন, এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলুর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া আদালত অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকারই বহিঃপ্রকাশ।

 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। আইনজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

Translate »