
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নবনির্মিত ১০০টি সড়ক সেতু উদ্বোধন করবেন। সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, ময়মনসিংহে ছয়টি, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি ও কুমিল্লায় একটি রয়েছে। এসব সেতু উদ্বোধন ঘিরে সংশ্লিষ্ট জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। স্থানীয়ভাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এসব অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।
সরকার ৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব সেতু নির্মাণ করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর আগে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন,
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সেতু উপহার দেবেন। আমরা শুভ ক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছি। কাদের বলেন, যাতায়াতের সময় কমিয়ে সড়ক যোগাযোগকে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ করার পাশাপাশি সেতুগুলো দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
জগন্নাথপুরে খুলছে স্বপ্নের রানীগঞ্জ সেতু : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে স্বপ্নের রানীগঞ্জ সেতুর দুয়ার খুলছে আজ। সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম এ সেতুটি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি উদ্বোধনের পর খুলে দেওয়া হবে। এ নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলাসহ জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ অক্টোবরে শেষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, রানীগঞ্জ সেতু চালু হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলাশহর থেকে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছতে প্রায় ৫২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সময় বাঁচবে প্রায় ৩ ঘণ্টা। সেতুটি ঘিরে নতুন স্বপ্ন ও ইকোনমিক জোনের সম্ভাবনা দেখছেন এলাকাবাসী।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, রানীগঞ্জ সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।
এ সেতু উদ্ধোধন উপলক্ষ্যে রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ ছাড়া আজ সুনামগঞ্জ জেলার আরও ১৬টি সেতু উদ্বোধন করা হবে।
খাগড়াছড়িতে ৪২ পাকা সেতুর উদ্বোধন : পর্যটন নগরী খাগড়াছড়িতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে বেইলি সেতু ভেঙে ৪২টি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সেতু উদ্বোধন ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে পুরো শহর। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। বেইলি সেতুর পরিবর্তে পাকা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে পাহাড়ের মানুষ লাভবান হচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৪২টি সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১শ ৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
খাগড়াছড়ি মহালছড়ি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে পরিবহণের চালক হিসাবে কাজ করছেন শাহ আলম ও মো.আলাল। তারা জানান, এই সড়কে নতুন চারটি পাকা সেতু হয়েছে। আগে বেইলি সেতু ছিল আমাদের ভোগান্তির কারণ।
ওষুধ সরবরাহকারী গাড়ির চালক আফজাল মিয়া বলেন, আমাদের এখন দ্রুত সময়ে ওষুধ পৌঁছাতে কোনো সমস্যা হবে না। বেইলি সেতু থাকতে প্রায়ই সেতু ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেত।
খাগড়াছড়ি ট্রাক-মিনি ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. জসীম বলেন, এখন সহজেই ফলদ, বনজ পণ্য পরিবহণ করা যাচ্ছে। কমেছে দুর্ঘটনা। পাকা সেতু হওয়ায় স্বল্প সময়ে পণ্য পরিবহণ করা যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :