

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ (২৭ সেপ্টেম্বর)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হবে। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এ দিবসের লক্ষ্য।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’।
পর্যটন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পর্যটন করপোরেশন। ভ্রমণপিপাসুদের আগমন উপলক্ষে দেশের পর্যটন হোটেল-মোটেলগুলোকে নতুন করে সাজিয়েছে পর্যটন করপোরেশন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় এক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সকাল ৮টায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা আগারগাঁওস্থ পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা আগ্রহের সাথে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ করার কারণে ধীরে ধীরে দেশের পর্যটন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এতে গতি ফিরছে দেশের পর্যটন শিল্পে। এদিকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ বিপুল পর্যটন সম্ভাবনাময় একটি দেশ।
২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি আমাদের দেশকে পরিণত করেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণসমৃদ্ধ অনন্য পর্যটন গন্তব্যে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের অকৃত্রিম সৌন্দর্য, সিলেটের সবুজ অরণ্যসহ আরও অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানসমূহ এবং অতিথিপরায়ণ মানুষ শুধু দেশীয় নয়, বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছেও সমান জনপ্রিয় এবং সমাদৃত।
তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২’ যথাযথভাবে উদযাপিত হচ্ছে, জেনে আমি আনন্দিত। জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত এবারের প্রতিপাদ্য ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
শেখ হাসিনা বলেন, পর্যটন শিল্প বিশ্বে একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শ্রমঘন খাত। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পর্যটন একটি কার্যকর উন্নয়ন কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী করোনা অতিমারির কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে করোনা অতিমারির সংকট কাটিয়ে পর্যটন শিল্পে নতুন উদ্যোগ ও ভাবনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
তিনি বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মহান স্বাধীনতার পর পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, পর্যটন শিল্পের পরিকল্পিত বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারাবিশ্বে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্ব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সফলভাবে তুলে ধরা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করেই জাতির পিতা দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কক্সবাজার ও কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করার জন্য নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পর্যটন সুবিধাদি সৃষ্টিতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। স্থানীয় কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে পর্যটনের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, সম্মিলিতভাবে পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করে বিশ্ব দরবারে দেশের পর্যটন শিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
তিনি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২২’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। অপরদিকে : পরিবেশের ভারসাম্য ও দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটনশিল্পে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২২’ পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন ‘এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই’।
এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পর্যটনে নতুন ভাবনা’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথার্থ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পর্যটন মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি। ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সান্নিধ্যে আসে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের মাধ্যমে সবাইকে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মনে করেন, এ উদ্যোগ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবনের পাশাপাশি পর্যটন বিষয়ক কর্মকাণ্ডে সর্বজনীন অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, এ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। রয়েছে অসংখ্য স্বতন্ত্র পর্যটন সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান। এসব অঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করলে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত উপায়ে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২২’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন। সূত্র : বাসস
আপনার মতামত লিখুন :