
ফটিকছড়ি শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে গতকাল (সোমবার) মাননীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হকের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার বাদী হলেন অধ্যক্ষের স্ত্রী নাজমা সুলতানা রুবা। এতে ৩০২/৩০৪/৫০৬/৩৪ ধারায় ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন,রাকিব বিন তৌহিদ চৌধুরী, মো.মাহবুব আলম,মো.শহীদুল আলম চৌধুরী, মো.নিজাম উদ্দিন, মো.গিয়াস উদ্দিন, ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও মো.নুরুল আলম সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জন।মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়,আসামীগনকে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার কারেনে প্রকাশ্যে আসামি গন বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ,চাকুরী হইতে বরখাস্ত, প্রাণে হত্যার করিবে বলে বারবার হুমকি দিত, মারধর করতে তেড়ে আসতো।এতে ভিকটিম চরম অপমানিত ও অসম্মানিত ও ব্যাথিত হয়ে মানসিক বিপর্যয়ের স্বীকার হয়ে বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করে হার্ট এট্যাকে গত ২৮শে এপ্রিল মৃত্যু বরণ করে। বাদী পক্ষের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য এডভোকেট মনজুর আলম বলেন, আমরা সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের করেছি আদালত মামলার আমলে নিয়ে পিটিআই চট্টগ্রামকে তদন্ত পূর্বক রির্পোট দিতে বলেছেন।এদিকে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে দায়ীদের শাস্তি চায় বাকশিসঃ ফটিকছড়ির শাহনগর স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে মানসিক নির্যাতনের কারণে মৃত্যুবরণ করার জন্য অভিযুক্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাকিব চৌধুরী এবং প্রাক্তন সভাপতি মো. শহীদুল্লাহকে দ্রæত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি-বাকশিস চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ দবির উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক অধ্যক্ষ আ.ন.ম সরওয়ার আলম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান। যুক্ত বিবৃতিতে বাকশিস নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রাক্তন সভাপতি শহীদুল্লাহ্ ও বর্তমান সভাপতি রাকিব চৌধুরী অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থনৈতিক অনৈতিক প্রস্তাবসহ নানা বে-আইনী বিভিন্ন কর্মকান্ড করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল, এমন কি পদত্যাগের জন্যও চাপ দিয়েছে। এতে অধ্যক্ষ রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি, হত্যার হুমকি এবং অপমান করার মাধ্যমে চরম মানসিক নির্যাতন করেছে বলে জানা গেছে। ফলে অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই অপমান সহ্য করতে না পারায় মানসিক চাপে স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সভাপতি কর্তৃক অধ্যক্ষকে হুমকি ধমকিমূলক একটি অডিও কথোপোকথন ব্যাপক প্রচার হওয়ার পরও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এখনো অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করায় বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বর্তমান পরিচালনা কমিটি বাতিল করে শিক্ষাবান্ধব কমিটি করার জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :