

ভাষাসৈনিক, লেখক, সংগ্রাহক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী প্রয়াত মুর্তজা বশীরের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাব (ডিপিসি)-এক বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করে। বুধবার (১৭ আগস্ট, ২০২২) ঢাকা জিপিও’র সম্মেলনকক্ষে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তাঁর জীবদ্দশার নানান স্মৃতিচারণ করা হয়। চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জম্মগ্রহণ করেন। উনি একাধারে একজন খ্যাতিমান চিত্রকর, কার্টুনিস্ট, লেখক, গবেষক ও সংগ্রাহক। তিনি বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সৈনিক। কর্মগুণে জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন সম্মানজনক একুশে ও স্বাধীনতা পদক। বহু প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা বিখ্যাত বহুভাষাবিদ ও বিশিষ্ট শিক্ষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। মুর্তজা বশীরের জন্মবার্ষিকীতে ডিপিসি আয়োজিত স্মরণসভার শুরুতে চিত্রশিল্পীর জীবনী পাঠ করেন ক্লাবটির মিডিয়া সেক্রেটারি (এই সংবাদ প্রতিবেদক)। স্মরণসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিপিসি’র জেনারেল সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ। এছাড়া আয়োজনে উপস্থিত ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফিলাটেলিক এসোসিয়েশন (বিএনপিএ)’, ‘ফিলাটেলিস্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (প্যাব)’, ‘ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএসবি)’ এবং ‘ওল্ড ঢাকা কালেক্টরস সোসাইটি (ওডিসিএস)’-এর এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যবৃন্দ নিজেদের বক্তব্যে গুণী এই শিল্পীকে স্মরণ করেন এবং স্মরণসভা আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে পিতার স্মৃতি তুলে ধরেন প্রয়াত মুর্তজা বশীরের দুই কন্যা। তাদের বাবার স্মরণে সভার আয়োজন করায় ডিপিসি ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তারা। এরপর ‘আনন্দ বেদনার কাব্য মুর্তজা বশীর’ শিরোনামে সংকলন করা চিত্রশিল্পীর আত্মকথা সভায় পাঠ করেন ডিপিসি’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও দেশবরেণ্য ডিজাইনার শাকিল হক। শিল্পীর জন্মবার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি বিশেষ খাম ও পোস্টমার্ক উদ্বোধন করেন ডাক মহাপরিচালক মো. ফয়জুল আজিম। এছাড়া বাংলাদেশ ম্যাচবক্স কালেক্টরস সোসাইটি (বিএমসিসি) থেকেও একটি প্রাইভেট খাম ও তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়। ডাকবিভাগের বিশেষ খাম, পোস্টমার্ক ও বিএমসিসি’র প্রাইভেট খামের ডিজাইন করেছেন সাকিল হক। এসময় ‘ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিশেষ খাম দুটো করে সৌজন্য উপহার হিসেবে দেয়া হয়। পরে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের মাহেন্দ্রক্ষণে (২৬ মার্চ, ২০২২) ‘ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাব (ডিপিসি)’ আত্মপ্রকাশ করে। এরপর গত ১৭ জুন ‘ফিলাটেলিক ফেয়ার’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্লাবটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ডিপিসি’র এই পথচলা স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একটি উদ্বোধনী খাম ও ওভারপ্রিন্ট ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিল। ‘ঢাকা ফিলাটেলিক ক্লাব’র বর্তমান এডভাইজার পারভেজ আলি আনোয়ার, প্রেসিডেন্ট ইসহাক ইমাম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট গোলাম আবেদ, আরিফ আনোয়ার খান, সাকিল হক ও আতাউল কাদির, জেনারেল সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ, জয়েন্ট-জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, ট্রেজারার সাইফুল আযম, এসিস্ট্যান্ট-ট্রেজারার মহিউজ্জামান ইমরান, অফিস সেক্রেটারি আশরাফ সিদ্দিক রানা, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি সত্যজিত ঘোষ, ফরেন অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি আবু আল হাসান, ফরেন অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি (এশিয়া) সুব্রত চৌধুরী, মিডিয়া সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুল (এই প্রতিবেদক), কালচারাল সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা, এক্সিবিশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, পাবলিক রিলেশনস সেক্রেটারি শিবলী রহমতুল্লাহ, পাবলিকেশন সেক্রেটারি ইরফান মাহিম এবং ইভেন্ট সেক্রেটারি রাজিবুল হোসেইন তুষার। এছাড়া ক্লাবের এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে আছেন হাসনান আল আমিন, রাসেল রহমান, কাজী আহম্মেদ শামীম, আবদুল্লাহ, ডা. রাজিব, আফতাবুল আলম, চিনু সাহা, শাহরিয়ার ও এনাম।
আপনার মতামত লিখুন :