২২ দিনে রিজার্ভ কমল ১৩১ কোটি ডলার


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৩, ২০২৩, ৯:০৩ অপরাহ্ণ / ৬৩৯
২২ দিনে রিজার্ভ কমল ১৩১ কোটি ডলার
Spread the love

দেশে ডলার সংকট এখনও কাটেনি। সংকট কাটাতে নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডলার বিক্রি ও আমদানি দায় মেটাতে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে  রিজার্ভ কমছে ১৩১ কোটি বা এক দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর চলতি অর্থবছরের সারে চার মাসে কমেছে ৬ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া গত এক বছরের হিসাবে রিজার্ভ কমেছে ৯ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৪৭ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি মাসের ২২ দিনে ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার কমে গত ২২ নভেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজাভের্র হিসাব। আইএমএফ স্বীকৃত বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ আছে ১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে রিজার্ভের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে জুন মাসে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর গত বছরের ২২ নভেম্বর ছিল ৩৪ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থচছরে ৪ মাস ২২ দিনে রিজার্ভ করেছে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। আর গত এক বছরে কমেছে ৮ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানকে দেয়া ঋণ গ্যারান্টি, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে এগুলোকেও রিজার্ভ হিসেবে দেখিয়ে আসছিল। এসব হিসাব বাদ দেয়ার কারণে রিজার্ভ থেকে ৫ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংকটের কারণে রিজার্ভ থেকে বাজারে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট নেগেটিভ থাকায় রিজার্ভ কমছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কাঙ্খিত না হওয়ায় রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে যে ডলার পাওয়া যায় তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয়, তার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর যে ডলার থেকে যায় সেটাই রিজার্ভে যোগ হয়। আর বেশি খরচ হলে রিজার্ভ কমে যায়।

Translate »