সাতকানিয়ায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী রতন মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৫, ১:৫৬ অপরাহ্ণ / ৭০৯
সাতকানিয়ায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী রতন মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাতকানিয়া থানাধীন কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীর নগরে এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তার স্বামী রতন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দেউলিয়া বিষয়ক আদালত), চট্টগ্রামের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন আজ ২৫ মে ২০২৫ ইংরেজি তারিখে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শিল্পী আক্তার (২৪) এর পিতা কামাল হোসেন ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে রতন মিয়ার সঙ্গে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শিল্পী আক্তার। বিবাহের পর জানা যায়, রতন পূর্বে বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। সেই গোপন তথ্য এবং পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ বৃদ্ধি পায়।

২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে রতন মোবাইল ফোনে জানায় যে শিল্পী আত্মহত্যা করেছে। পরে তার লাশ মীর নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, ২ ডিসেম্বর রাত ১০টা থেকে ৩ ডিসেম্বর ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে শিল্পী আক্তারকে হত্যা করে তার লাশ রেখে রতন ও সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন, অপরদিকে আসামিপক্ষ তিনজন সাক্ষী উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু।

চার্জশিট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে বিজ্ঞ বিচারক রতন মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু আদালতে যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, “এই মামলাটি একটি নির্মম, নিষ্ঠুর এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিবাদী রতন মিয়া পূর্বে বিবাহিত এবং সন্তান থাকার তথ্য গোপন রেখে ভিকটিম শিল্পী আক্তারের সাথে প্রতারণামূলকভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিবাহের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান, যার ফলস্বরূপ পারিবারিক কলহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। এই পারিবারিক কলহের জেরে বিবাদী পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে নির্জন বাসায় এনে ২/১২/২০১৬ রাত হতে ৩/১২/২০১৬ ভোরের মধ্যে যে কোন সময়ে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার সাক্ষ্য, জব্দ তালিকা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, এটি আত্মহত্যা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যা। আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে এবং আদালত যথাযথ শাস্তি প্রদান করেছেন।

তিনি আরো বলেন এই রায় ভিকটিম পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Translate »

fins88

fins88

mister138

nona88

slot

fins88

nona88/

mister138

slot777

milenium88

mister138

fins88

slot bet 200

nona88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

wijaya88

plaza88

crazyrich88

star88

slot jepang

mahjong

spaceman