বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২২, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ / ৩৭৬
বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি
Spread the love

জাহিদ শিকদার, বরিশাল ব্যুরোঃ

স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দিতে না পাড়ায় শিরিনা আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে অভিনব কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে। নিরুপায় হয়ে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ কে বাঁচাতে স্বামীর পাশের ঘরের ভাশুর ফকর উদ্দিন বিশ্বাস ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে আইনি সহায়তা চান। পরে বাউফল থানা পুলিশ স্বামীর ঘর থেকে অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাউফল হাসপাতাল গিয়ে ওই গৃহবধূকে হাসপাতাল বেডে অসুস্থ অবস্থায় কাঁদরাতে দেখা গেছে।
জানাগেছে, ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বাহির দাশপাড়া গ্রামের মৃত্যু শামসুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ হাফিজ উল্লাহ (৪৫) এর সাথে একই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রামের মোঃ জয়নাল হাওলাদারের মেয়ে শিরিনা বেগমের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় বর পক্ষের চাহিদা অনুযায়ী স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল দেওয়া হয়। বিয়ের পর কিছু দিন যেতে না যেতেই হাফিজ উল্লাহ ও তার পরিবারের লোকজন শিরিনাকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দিতে থাকে । শিরিনার দিনমজুর বাবা মেয়ের সংসারে শান্তির কথা চিন্তা করে ধার দেনা করে চলতি বছরের জুন মাসে ২ লাখ টাকা দেন। ওই টাকা পেয়ে কিছুদিন ভালো ভাবেই সংসার চলে আসছিলো তাদের। কিছুদিন যেতে না যেতেই আরো ১ লাখ টাকা বাবার বাড়ী থেকে আনতে হবে বলে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলো তার স্বামী ও স্বামীর ঘরের লোকজন। শিরিনা তার স্বামীর জন্য পুনরায় বাবা কাছে আরো এক লাখ টাকা চাইলে বাবা জয়নাল হাওলাদার দিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়। ওই টাকার জন্য পুনরায় তার উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
এ ঘটনা নিয়ে (২৩ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সালিস বৈঠক হয়। সালিস বৈঠকের এক পর্যায়ে স্বামী হাফিজ উল্লাহ ও তার ভাই মেজবাহ উদ্দিন জমি ক্রয়ের নামে শিরিনার বাবার কাছে আরো ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন । এ সময় শিরিনার বাবা (জয়নাল) তার আর্থিক অচ্ছলতা তুলে ধরে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হাফিজ উল্লাহ শিরিনাকে নিয়ে ঘর সংসার করতে আপত্তি করেন। যৌতুকের টাকা ছাড়া শিরিনাকে নিয়ে সংসার করবেনা বলে জানিয়ে দেন। এর পর শিরিনার স্বামী হাফিজ উল্লাহ ও তার ভাই মেজবাহ উদ্দিনের পা ধরে কান্নাকাটি করলেও মন গলে না তাদের। এক পর্যায়ে স্বামী ও দেবর মিলে গৃহবধু শিরিনাকে মারধর করে গলায় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। এবং দাবিকৃত যৌতুকের ১ লাখ টাকা না দিলে তাকে তালাক দিয়ে আরেকটি বিয়ে করবে বলে হুমকি দেয়। তার পর থেকেই ঠিকমতো খাবার দেয়া হতোনা শিরিনাকে। বাড়ীর অন্য কারো সাথে যাতে কোন ধরনের যোগাযোগ করতে না পারে তার জন্য বাসার একটি রুমে আটকিয়ে রাখা হতো শিরিনাকে।
শিরিনার আর্তনাদ ও মায়া কান্নায় পাশের ঘরের লোক জনের মন গললেও যৌতুক লোভী পাষান্ড স্বামী ও তার পরিবারের মন গলেনি। বুধবার (২৮ সেপ্টম্বর) ঘর থেকে তারাবার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মারধর করলে অসুস্থ হয়ে পরে শিরিনা। সংবাদ পেয়ে বাউফল থানা পুলিশের ঘটসা স্থলে গিয়ে শিরিনাকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এ দিকে কোণ ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন স্বামী ও দেবর। হাসপাতালেও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শিরিনা। এ বিষয়ে ওই বাড়ীর হাবিবুল্লা বিশ্বাস বলেন,এ পর্যন্ত হাফিজ উল্লাহ তিনটি বিয়ে করেছেন। বিয়ের কিছুদিন পরেই বিভিন্ন অজুহাতে শুশুর বাড়ীর কাছ থেকে টাকা আনে। বছর খানেক পরেই তালাক দিয়ে তারিয়ে দেয়াটাই তার অভ্যাস।
এবিষয় শিরিনার স্বামী হাফিজ উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, মারধরের ঘটনা সত্য নয়। যৌতুক চাওয়ার কোন বিষয় না। আমি শারিরিক ভাবে অক্ষম তাই ওকে রাখবোনা। বিষয়টা আপনারা মিমাংশা করে দেন।

Translate »