রেলওয়ে টিকিট কালোবাজারি মামলায় চট্টগ্রামে এক ব্যক্তির ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৫, ২:৪৪ অপরাহ্ণ / ১০৯
রেলওয়ে টিকিট কালোবাজারি মামলায় চট্টগ্রামে এক ব্যক্তির ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

মোহাম্মদ আলী আকবর:

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির মামলায় মোঃ ইমরান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১০-এর বিচারক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল, চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনের ৭ নম্বর কাউন্টারের সামনে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এক সংকটময় অভিযানে মোঃ ইমরানকে হাতেনাতে আটক করে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, তার কাছ থেকে মহানগর গোধূলী এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৬টি টিকিট উদ্ধার করা হয়। অভিযোগে রয়েছে, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তিনি বুকিং অফিসের পেছনের করিডোরে রেলওয়ের এসিও আবুল কাশেমের কাছ থেকে ১২,০০০ টাকা প্রদান করে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন।

বিশেষ ট্রাইবুনাল ৪, চট্টগ্রামের বিচারক আব্দুল মজিদ আজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরবর্তীতে, মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দেউলিয়া বিষয়ক আদালত ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১০, চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।

বিচার চলাকালে আদালতে মোট আটজন সাক্ষী উপস্থিত থেকে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়াও, আসামি মোঃ ইমরান আদালতে ১৬৪ ধারার মোতাবেক অভিযোগের সাথে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১০-এর বিচারক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন এবং আদালত তাকে সি/ডব্লিউ মুলে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু। তিনি রায়ের পর বলেন,
“এই রায় রেলওয়ে টিকিট কালোবাজারিদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ এই ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়, সে জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

রায় ঘোষণার পর সাধারণ জনগণ ও যাত্রীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জানান,
“রেলওয়ে টিকিট কালোবাজারি বন্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই রায়ের ফলে, সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। মামলার এই রায় রেলওয়ে টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাচ্ছে।

Translate »

link slot tergacor