“সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করতে চাই”—আসলাম চৌধুরী


প্রকাশের সময় : মার্চ ৩১, ২০২৫, ৩:১১ অপরাহ্ণ / ১৪৪
“সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করতে চাই”—আসলাম চৌধুরী
Spread the love

মোহাম্মদ নাজিমুজ্জামান:

দীর্ঘ ১৭ বছর পর সীতাকুণ্ডের মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ায় আবেগাপ্লুত বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল আটটায় সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আপনাদের কাছ থেকে দূরে ছিলাম। বহুদিন পর আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি, আপনাদের চোখে চোখ রাখতে পারছি—এটাই আমার জন্য অনেক আনন্দের। আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাকে আজ এই সুযোগ করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।”

 

সীতাকুণ্ডবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, “ঈদ সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সবাই যেন ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, এটাই আমার কামনা।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমি সীতাকুণ্ডের মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই। সামনের দিনগুলোতে আপনাদের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলতে গেলে, আমার একটি মাত্র মেয়ে আছে। আশা করি, এই বছরের মধ্যেই বা আগামী বছর তার বিয়ে দিতে পারব। এরপর আমার আর কোনো ব্যক্তিগত দায় থাকবে না, আমি পুরোপুরি সীতাকুণ্ডের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।”

 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে মনে করেন বিএনপি বা জামায়াত ক্ষমতায় আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। শুধু পার্থক্য এটুকু যে, একসময় স্বৈরাচার আমাদের কণ্ঠ রোধ করে রেখেছিল। এখন সেই পাথর সরে গেছে, আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি, কথা বলতে পারছি, সংগঠন ও রাজনীতি করতে পারছি। অতীতে অধিকারের কথা বললেই আমাদের জেলে পাঠানো হতো, কিন্তু এখন আমরা সেই ভয় থেকে কিছুটা মুক্ত।”

 

 

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা সব ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা করব এবং আশা করি, আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের কেউ অন্যায় করলে আমাদের জানান, আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে নিরপরাধ কাউকে যেন ফাঁসানো না হয়।”

 

বিশেষ করে, সীতাকুণ্ডে কৃষকদল নেতা নাসির উদ্দিন হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মামলায় নিরপরাধ কাউকে যেন আসামি করা না হয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করতে হবে। আমি জানতে পেরেছি, সীতাকুণ্ড থানার ওসি মজিবুর রহমানের কক্ষে পরিকল্পিতভাবে কিছু নিরপরাধ বিএনপি কর্মীকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল এবং অনেক নির্যাতিত হয়েছে। যদি কোনো ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা করা হয়, তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে। তবে যদি আমাদের দলের কেউ প্রকৃতপক্ষে জড়িত থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

 

তিনি বলেন, “আমাদের পৌরসভা এলাকাতেও অনেক সমস্যা রয়েছে, যা সমাধানে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করব। সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে বয়কট করব।”

সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আমি আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সীতাকুণ্ডকে একটি উন্নত ও কল্যাণকর জনপদে রূপান্তর করতে চাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে কাজ করি, যাতে সীতাকুণ্ডবাসী একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ উপভোগ করতে পারে।”

Translate »