সিডিবিএ’র এড-হক কমিটি এফডিআরের ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধার, ৪০ জন নন-প্র্যাকটিশনার আইনজীবীকে শোকজ


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৫, ১০:০৩ অপরাহ্ণ / ২৩৩
সিডিবিএ’র এড-হক কমিটি এফডিআরের ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধার, ৪০ জন নন-প্র্যাকটিশনার আইনজীবীকে শোকজ
Spread the love

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির (সিডিবিএ) নবগঠিত এড-হক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে দুর্বল ব্যাংক থেকে সমিতির এফডিআরকৃত ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আদালত অঙ্গনের যানজট নিরসন, চেম্বার সংকট সমাধান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, জেলা ও দায়রা জজ ও মহানগর দায়রা জজ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সমিতির নিয়ম ভঙ্গকারী ৪০ জন নন-প্র্যাকটিশনার আইনজীবীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু অন্যতম।

জেলা ও দায়রা জজ ও মহানগর দায়রা জজের সাথে সাক্ষাৎ

এড-হক কমিটি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতা ও আদালত সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

জেলা ও দায়রা জজের সাথে আলোচনায় বিচার বিভাগের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি আদালত ও বার-এর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মহানগর দায়রা জজের সাথে সাক্ষাতে মামলার জট কমানো, আইনজীবীদের পেশাগত সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আদালত চত্বরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

দুর্বল ব্যাংক থেকে ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধার

সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নবগঠিত কমিটি দুর্বল ব্যাংকে এফডিআর করা সমিতির অর্থ উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিগত সময়ে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে সমিতির টাকা এফডিআর করা হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আলোচনা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পর একটি ব্যাংক থেকে ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

এড-হক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মকবুল কাদের চৌধুরী বলেন, “আমরা সমিতির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বদ্ধপরিকর। অনিয়ম রোধ এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কঠোর নীতি গ্রহণ করা হবে।”

৪০ জন নন-প্র্যাকটিশনার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিয়মিত আইনপেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাই সদস্যপদ পেতে পারেন। কিন্তু কিছু নন-প্র্যাকটিশনার আইনজীবী বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও তথ্য গোপন করে সমিতির সদস্যপদ গ্রহণ করে সমিতির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

এড-হক কমিটির তদন্তে এ তথ্য উঠে আসার পর ৪০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তাদের সদস্যপদ কেন বাতিল করা হবে না— এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এড-হক কমিটির কার্যক্রম নিয়ে মতামত

এড-হক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জহুরুল আলম জহুর বলেন, “নবগঠিত কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। দুর্বল ব্যাংকে বিনিয়োগ করা সমিতির অর্থ উদ্ধার ও অনিয়ম দূর করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এড-হক কমিটির এই উদ্যোগের প্রশংসা করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, “এই কমিটি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সমিতির আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ করার জন্য তাদের কার্যক্রম ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।”

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করতে এড-হক কমিটি যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়।”

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আকবর আলী বলেন, “সমিতির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও স্বচ্ছতা আনতে এড-হক কমিটির কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।”

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দেউলিয়া বিষয়ক আদালত), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও দৈনিক সাঙ্গুর আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, “আইনজীবী সমিতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য আর্থিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এড-হক কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে সমিতির জন্য কল্যাণকর হবে।”

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বলেন, “এড-হক কমিটির উদ্যোগ সমিতির দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় এই কমিটির কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।”

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ খোরশেদুল আলম বলেন, “এড-হক কমিটির সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো সমিতির সার্বিক শৃঙ্খলা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপ বন্ধ করে আইনজীবীদের পেশাগত সুনাম বজায় রাখতে তাদের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

সুষ্ঠু নির্বাচন ও সমিতির স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ বলেন, “আমরা চাই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন। সমিতির নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

অ্যাডভোকেট মোঃ জহুরুল আলম বলেন, “নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সে লক্ষ্যে এড-হক কমিটি যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে। সকল সদস্যের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

এড-হক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মকবুল কাদের চৌধুরী বলেন, “আমরা সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। দুর্বল ব্যাংক থেকে অর্থ উদ্ধার, সদস্যপদ সংক্রান্ত অনিয়ম রোধ এবং আদালত চত্বরে আইনজীবীদের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সিডিবিএ’র নবগঠিত এড-হক কমিটির এসব উদ্যোগ চট্টগ্রামের আইনজীবী মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আইনজীবীরা আশা করছেন, কমিটির এই কার্যক্রমের ফলে সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত হবে।

Translate »

fins88

fins88

mister138

nona88

slot

fins88

nona88/

mister138

slot777

milenium88

mister138

fins88

slot bet 200

nona88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

wijaya88

plaza88

crazyrich88

star88

slot jepang

mahjong

spaceman