

জাহিদ শিকদার,বরিশাল ব্যুরোঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে চাষকৃত মাছের ঘেরে গভীর রাতে গ্যাস ট্যাবলেট নামক কিটনাশক ঔষধ দিয়ে প্রায় ২০লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। সর্বনাশ করে সর্বশান্ত করে দিয়েছে ঘেরের মালিক মাছ চাষি নুর জামালকে।
রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলতাফ ঘের সংলগ্ন কালভার্ট ব্রিজের পশ্চিম পাশে নুর জামালের মাছ চাষের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে । মাছ চাষি মোঃ নুর জামাল (৩৫) স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হারেজ মুন্সীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘের থেকে বোস্তা ও বড় পাতিলে করে একের পর এক মরা মাছ উঠিয়ে ঘেরের পাড়ে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। এসময় স্থানীয়রা জানান, কে বা কাহারা গভীর রাতে নুর জামালের ঘেরে গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে সর্বনাশ করে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ মরে সব ভেসে রয়েছে। সব মাছগুলো ছোট ছোট। কি সর্বনাশটাই করলো ছেলেটার।
অভিযোগ করে মাছ চাষি নুর জামাল বলেন, আমার সর্বনাশ হয়েছে, আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে। আমি প্রতিদিনের ন্যায় রাত ১টার পরে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। হঠাৎ ঘেরের দক্ষিণ পাশে বাড়ি আমার ফুফাতো বোন রুমা ফোন দিয়ে বলে ঘেরের মাছ মরে ভেসে রয়েছে শুনেই দৌড়ে এসে দেখি সব মাছগুলো মরে ভেসে আছে। পরে ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয়রা আসলে তারা উত্তর পাড় থেকে গ্যাস ট্যাবলেট জাতীয় কিটনাশক ঔষধ পলিথিনে মোড়ানো উদ্ধার করে। আমার শত্রু রয়েছে একাধিক। হয়তো ওই সময় আমাকে একা ঘেরে পেলে মেরে ফেলতো। কিন্তু কারা আমার এরকম সর্বনাশ করলো বুঝতে পারছিনা। ২০লক্ষ টাকার উপরে হবে মাছগুলো মরে গেছে।
ফুফাতো বোন রুমা বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে নামাজ পড়ে ঘেরের পাশে তালগাছ তাই তাল টোকানোর জন্য গিয়ে দেখি ঘেরে মাছ মরে ভেসে আছে। ততক্ষনাত বাসায় গিয়ে ফোন দিয়ে বলি এঘটনার কথা।
এদিকে নুর জামালের মা জানান, আমার ছেলের অনেক শত্রু আছে। কে বা কাহারা এমন কাজ করেছে। সর্বনাশ করে দিয়েছে আমার ছেলের। সর্বনাশ করে দিয়েছে।
উপস্থিত ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমির হোসেন প্যাদা বলেন, নিশ্চিতরূপে বলতে পারি এটা পূর্বশত্রুতার পূর্ব পরিকল্পিত। এমন নেক্কারজনক ঘটনা মেনেই নিতে পারছিনা। সর্বনাশ করে দিল ছেলেটার।
এবিষয়ে বাউফল থানার ওসি আল-মামুন বলেন, ঘটনা শুনেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :