

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দেউলিয়া বিষয়ক আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় দুই আসামিকে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন রায় প্রদান করেন। রায়ে আসামি মোঃ নূর হাকিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং অপর আসামি মোঃ আলীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বি.জি.সি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের সামনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ অভিযানে স্বাধীন ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে দুই আসামিকে আটক করা হয়। এসময় নূর হাকিমের উরুতে স্কচ টেপে মোড়ানো দুটি পলিপ্যাকেট থেকে ৪০০০ পিস ইয়াবা এবং মোঃ আলীর প্যান্টের পকেট থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
গ্রেফতারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর সারণীর ১০(গ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের পর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ৫ম দায়রা জজ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে স্থানান্তরিত হয়।
এই মামলায় মোট ৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন, যার মধ্যে ছিলেন গ্রেফতারকারী পরিদর্শক, বাসের সুপারভাইজার, চালক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয় যে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ইয়াবা বহন ও সংরক্ষণ করছিল।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রায়ের পর তিনি বলেন, “এই মামলার রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শূন্য সহনশীলতা নীতি কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রপক্ষ কঠোর অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই ধরনের রায় দেশের তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা রাখবে এবং অপরাধীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। মাদক সমাজকে ধ্বংস করে, তাই এই মামলার রায়ের মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই যে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা মনে করছে, এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারীদের জন্য কঠোর বার্তা বহন করবে।
আপনার মতামত লিখুন :