ঘটনার দিন উপস্থিত না থাকার পরও প্রাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২২, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ / ৩৪৪
ঘটনার দিন উপস্থিত না থাকার পরও প্রাবাসীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
Spread the love

মোঃ রুবেল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়ন মনিপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় আহার মিয়া কে হুমকি ধামকি দেওয়ার ঘটনার দিন উপস্থিত না থাকার পরও প্রবাসী বকুল মিয়া কে ১নং আসামি করে নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাদী আহার মিয়া।

সরজমিন গিয়ে জানা যায়,বকুল মিয়া গত ৪ আগষ্ট ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে  সৌদি আরব তার নিজ কর্মস্থলে চলে যায়।গত ২২ সেপ্টেম্বর তার প্রতিবেশী আহার মিয়া নবীনগর থানায়  বকুল মিয়াকে ১নং আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন যাহার এস ডি আর নং১৫৫৭।উক্ত অভিযোগে স্পষ্ট উল্লেখ্য করেন সৌদি আরবে থাকা বকুল মিয়া ঘটনার দিন দলবল নিয়ে মামলার বাদীর বসত বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করেন।প্রকৃতপক্ষে ঘটনার দিনের ২ মাস পূর্বে বকুল মিয়া সৌদি আরব চলে যায়।

এবিষয়ে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়,বকুল মিয়া একজন সমাজ সেবক এবং দীর্ঘ ৩ মাস ধরে গ্রামে নেই,সে ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরব চলে গেছে।

অভিযোগ করা বাদী আহার মিয়ার স্ত্রী ও ছোট ভাই জানায়,আমাদের বাড়িতে হামলা করতে কয়েকজন লোকজন এসে ছিল, কিন্তু ঐখানে বকুল মিয়া উপস্থিত ছিলেন না,সে ২ মাস পূর্বে বিদেশ চলে গেছে।

অভিযোগের ২ ও ৩ নং স্বাক্ষী আমিন ও আলকাছ মিয়া জানান,মারামারি যে দিন হয়েছিল সে দিন বকুল ঘটনাস্থলে ছিলনা,আমরা তাকে দেখিনি,কিন্তু সে লোক পাঠিয়েছে।

ঐ ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য আব্দুল গফুর জানান,আমি একজন ওয়ার্ড মেম্বার।এই গ্রামে মারামারি হয়েছে তা শুনিনি বা দেখিনি।ছোট ছোট ছেলেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে সবাই মিলে শেষ করে দিয়েছে।আমি উপস্থিত ছিলাম বলে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যে বানুয়াট,আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

মামলার ১নং আসামি বকুলের স্ত্রী জানান,আমরা মনিপুর থাকতে পারতেছিনা, আহার মিয়া ও তার লোকজনের ভয়ে নবীনগর শহরে বাসা ভাড়া করে থাকি।সরকারের নিকট আমরা নিরাপত্তা চাই।আমার স্বামী প্রবাসে থাকা সত্বেও যে মামলার আসামি করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে এর বিচার চাই।

ভিডিও বার্তায় বকুল মিয়া জানান,আমি সৌদি আরব প্রবাসী,আমি গত ০৪ আগষ্ট বাংলাদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরব চলে আসি,কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর নবীনগর থানায় আমাকে ১ নং আসামি করে ২১ সেপ্টেম্বর আমার উপস্থিত দেখিয়ে আহার মিয়া একটি অভিযোগ করেন যাহা মিথ্যা ও বানোয়াট।আমরা প্রবাসীরা প্রবাসে থেকে এত কষ্ট করে দেশের জন্য টাকা পাঠায় অথচ সে দেশে আমি প্রবাসে থাকা সত্বেও দেশে দেখিয়ে মামলা হয় যা দুঃখজনক।আমার প্রবাসে আসার সকল তথ্য প্রমাণ রয়েছে।আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা ও মিথ্যে সংবাদ প্রচার হওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং একজন রেমিটেন্সযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বাদী আহার মিয়া জানান,ঘটনার দিন বকুল মিয়া উপস্থিত ছিলেন না,সে বিদেশ থাকে।কয়েকজন মুখোশধারী লোকজন এসে হুমকি প্রদান করেছে,আমি ধারণা করছি এর মধ্যে বকুল মিয়া ছিল।কারণ সে বিদেশ থেকে আসতে সময় লাগে না।

 

Translate »