আরাফাত রহমান কোকো: এক বিস্মৃতপ্রায় ক্রীড়াপ্রেমীর জীবন ও অবদান


প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৪, ২০২৫, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ / ১২৫৯
আরাফাত রহমান কোকো: এক বিস্মৃতপ্রায় ক্রীড়াপ্রেমীর জীবন ও অবদান
Spread the love

লেখক: এড মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু , সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটি

আজ, ২৪ জানুয়ারি ২০২৫, আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই কোকো ছিলেন একজন সাদাসিধে, বিনয়ী এবং প্রচারবিমুখ মানুষ। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি রাজনীতি নয়, ব্যবসা ও ক্রীড়াঙ্গনে তার কর্মজীবনকে নিবেদিত করেছিলেন।

২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মালয়েশিয়ায় আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আরাফাত রহমান কোকো। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। তার মৃত্যুর পর দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। চার দিন পর ২৮ জানুয়ারি তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট। তখনই দেশময় মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট শুরু হয়। তার পিতা মেজর জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তার পরিবারকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি রাখে। স্বাধীনতার পর তাদের মুক্তি ঘটে।

১৯৮১ সালে তার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনা বিদ্রোহে নিহত হলে কোকো একক মায়ের স্নেহ ও তত্ত্বাবধানে বড় হন। তিনি ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ ও মিতবাক স্বভাবের ছিলেন, যা তার মায়ের কাছে তাকে বিশেষ প্রিয় করে তুলেছিল।

কোকো ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগে ক্রিকেট জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রসারিত হয়। বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের পেছনে তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।

তিনি মোহামেডান ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির কালচারাল সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেছেন। তার প্রচেষ্টায় জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে কোকো ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে। নব্বইয়ের দশকে তিনি বাকিতে মোটরসাইকেলের তেল কিনতেন, যা তার বিনয়ী জীবনের একটি দৃষ্টান্ত। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তিনি দুই বেডের একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করতেন। নিজের মেয়েদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও নিয়ে আসা—সবই তিনি নিজেই করতেন।

গ্রেফতার ও রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। মায়ের ওপর নির্যাতনের খবরে তিনি সবসময় মানসিক চাপে থাকতেন। এ সবকিছুই তার অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের দিনে আরাফাত রহমান কোকোর জীবনের সাদাসিধে চরিত্র, বিনয়ী মনোভাব এবং ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে হারানো বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

 

Translate »

fins88

fins88

mister138

nona88

slot

fins88

nona88/

mister138

slot777

milenium88

mister138

fins88

slot bet 200

nona88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

tirto88

wijaya88

plaza88

crazyrich88

star88

slot jepang

mahjong

spaceman