

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা শেষে আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে ফিরলেন সীতাকুণ্ডের পরিচিত সংগঠক মোঃ শওকত হোসেন। আজ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার, চট্টগ্রাম নগরের একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মোঃ মহিউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন দুলাল , কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এম আর চৌধুরী মিল্টন, ১ নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী এনামুল বারী, ২ নং ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি জাফর ভূঁইয়া, ৪ নং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার কামাল, ৫ নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন রাসেল, ৬ নং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মেম্বার ও সদস্য সচিব আলমগীর মেম্বার, ৮ নং ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সভাপতি চৌধুরী নুরুদ্দিন মোঃ জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান , সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হুসাইন লাভলু , ২ নং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূরনবী সালাম সহ পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে দলে স্বাগত জানান।
শওকত হোসেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৮৬ সালে সীতাকুণ্ড ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর ১৯৮৮ সালে সীতাকুণ্ড কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে সীতাকুণ্ড পৌর বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, ২০০৪ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের জন্য কাজ করেন।
এছাড়াও শওকত হোসেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দলীয় কাঠামোতে উপযুক্ত মূল্যায়ন না পাওয়ায় তিনি ভিন্ন রাজনৈতিক পথে হাঁটতে বাধ্য হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত কলাবাগান থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন।
পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকেও বিএনপির সঙ্গে তার বন্ধন দৃঢ়। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেক্রেটারির জ্যেষ্ঠ কন্যার জামাই।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই প্রত্যাবর্তনকে সীতাকুণ্ডের বিএনপির নেতাকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতার ফিরে আসা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এটি কেবল একটি যোগদান নয়। এটি দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক, আদর্শ এবং রাজনীতির ঘরে ফিরে আসা এক সন্তানের গল্প।
আপনার মতামত লিখুন :