

নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ৭ অক্টোবর দলিল লেখক সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকার হারুন অর রশিদ নিজে দলিল লেখক হয়ে ভিন্ন দলিল লেখক এর দলিল নিয়ে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে একটি দলিল রেজিষ্ট্রেশন করতে গেলে কাগজপত্র যাচাই শেষে উপযুক্ত ব্যক্তি দাতা ও গ্রহীতাকে এনে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা ও এজলাসে গিয়ে সাব রেজিস্ট্রার অফিস স্টাফদের হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করে কিছু দুষ্কৃতিকারী।
এবিষয়ে দেশের দুটি পত্রিকায় অনলাইন ভার্সন এ সাব- রেজিস্ট্রার সীতাকুণ্ডকে নিয়ে একটি মিথ্যা, ভূয়া, মনগড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়। এবিষয়ে সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রার রাইহান হাবীব বলেন, দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কার্যালয়ের জনৈক দলিল লেখক হারুন অর রশীদ একটি দলিল নিয়ে আইনগত পরামর্শ সাব-রেজিস্ট্রারের সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম এর জন্য নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার খাস কামরায় প্রবেশ করেন। দলিলটি পরীক্ষা পূর্বক রেজিস্ট্রেশন আইনের আলোকে সাব-রেজিস্ট্রার দলিলটি প্রত্যাখ্যান করেন। এমতাবস্থায় দলিল লেখক হারুন অর রশীদ পুনরায় দলিলটি একজন এডভোকেট এর মুসাবিদাকৃত তার নিজের মুসাবিদাকৃতও নয় এবং পক্ষ একজন সাংবাদিক দেখে নেয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে খাস কামরা থেকে বের হয়ে অন্যান্য স্টাফদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরন করেন হারুন। মিনিট পাঁচেক পর হারুন কিছু দুর্বৃত্তকে নিয়ে বল পূর্বক খাস কামরায় প্রবেশ করে প্রচন্ড উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। ইতিমধ্যে দলিল লেখক হারুনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
তার এমন গুরুতর অসদাচারনে উপস্থিত কর্মকর্তা, কর্মচারী, দলিল লেখকগন ছাড়াও রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা লোকজন ভয়ে আতংকিত পড়েন। এবিষয়ে কয়েকজন দলিল লেখক নামপ্রকশে অনিচ্ছুক বলেন, নিয়মের বাহিরে কাজ করলে অডিটে সাব রেজিস্ট্রার দোষী হবেন, তাই নামজারীসহ সকল কাগজপত্র ও দাতা গ্রহীতাকে উপস্থিত হতে বলে দলিলটি করে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সাব- রেজিস্ট্রার তাকে তার আগের পরামর্শ ব্যক্ত করলে হারুন অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন। এজলাস ও অফিস রুমে হট্টগোল সৃষ্টি করে। এ সময় কার্যালয়ের টিসি মোহরার মোঃশহীদুল্লাহও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এবং তিনি হারুনকে নিবৃত্ত করতে চাইলে তাকেও
সীতাকুণ্ডে সাব রেজিস্ট্রর না ঢুকার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবীর নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যায় কাজ না করায় এই গর্হিত কাজ করেছেন হারুন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে দলিল লেখার লাইসেন্স বাতিল করা দরকার। তাছাড়া তারা বলেন সীতাকুণ্ডে বেশকিছু দুর্বৃত্ত সাব রেজিস্ট্রার অফিস, এসিল্যান্ড অফিসে সবসময় ঘুরঘুর করে। তারা দালালীতে ব্যস্ত, অন্যায় অনিয়ম হলে নিউজ করবে কিন্তু তা না করে অন্যায় আবদার না রাখলেই মিথ্যা সাজানো নিউজ করে। এটা জাতির সাথে প্রতারনা। এসব সাংবাদিকের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকদের কাছে অভিযোগ পাঠানো দরকার বলেও মত প্রকাশ করেন। এবিষয়ে হারুন অর রশিদকে ফোন করলে মোবাইলে নয় সরাসরি পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন।
উক্ত ঘটনায় জেলা রেজিস্ট্রার মিশন চাকমা বলেন, সাব রেজিস্টারের খাস কামরা ও অফিসে হামলা কিংবা হুমকি প্রদর্শণ গর্হিত কাজ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :