

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর সরকারি আইন কর্মকর্তাদের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাবা ফরিদা খানম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি প্রতিষ্ঠান। আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং আমি সর্বদা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পাশে আছি। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি আইনজীবীদের সার্বিক সহযোগিতা করবো। সরকারি আইন কর্মকর্তারা বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং তাদের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।”

প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান চিরকাল স্মরণীয়। তিনি আমাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন এবং দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা একটি শক্তিশালী বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলি। তার অবদান আমাদের সকলের জন্য প্রেরণার উৎস এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জাতির কল্যাণে কাজ করা।”

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা আমাদের জন্য একটি আনন্দের মুহূর্ত। এই সময় আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। তাদের ত্যাগ ও অবদান আমাদের পথ দেখাবে। বিচার ব্যবস্থায় উন্নয়ন এবং ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠায় আমাদের দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন।”
স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দিন হেলাল বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিল আমাদের সকলকে একত্রিত করেছে। আমরা যে বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছি, তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এবং আমরা তার পথ অনুসরণ করছি।”
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট সেলিনা খানম বলেন, “সরকারি আইন কর্মকর্তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। আমরা শুধু রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নই, আমরা বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ মুরশিদ বলেন, “সরকারি আইন কর্মকর্তাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত সম্মানী ও প্রণোদনার প্রয়োজন। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি, যা রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অতিরিক্ত মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নেজাম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “আইনজীবীদের সম্মান এবং মর্যাদা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না, যদি না এর পেশাদাররা যথাযথ সম্মান এবং সুযোগ না পায়। সরকারী আইন কর্মকর্তাদের সম্মানী বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর সরকারের আইন কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো, আমাদের কাজের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি করা।”
“আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের যে উন্নতি হয়েছে, তা আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য স্থায়ী করে রেখে যাব। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে আমরা বিচার ব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগে আরও ন্যায় ও সততার প্রতিফলন ঘটাতে পারি।”
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট কেএম খাইরুল ইসলাম হিরো বলেন, “আইনজীবীরা বিচার ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানো উচিত।”
দেউলিয়া বিষয়ক আদালত চট্টগ্রামের প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, “সরকারি আইন কর্মকর্তাদের সম্মানী বর্তমানে অপ্রতুল। আমরা দাবি জানাই, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের সম্মানী এক লক্ষ টাকা, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরদের সম্মানী ৮০ হাজার টাকা এবং সরকারি এপিপিদের সম্মানী ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আইন কর্মকর্তারা আরও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, “আইন কর্মকর্তারা কেবল রাষ্ট্রের প্রতিনিধি নন, তারা জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রধান সেতুবন্ধন। তাই তাদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।”
অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, “রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে, আমরা সততা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থেকে দায়িত্ব পালন করবো।”
অন্যান্য বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মোঃ এনামুল হক, এডভোকেট আলী আকবর সানজিক, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি এডভোকেট এইচ এস সোহরাওয়ার্দী, এডভোকেট মোহাম্মদ আলী ইয়াসিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ রাহিম উদ্দিন চৌধুরী ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন।

এই মিলনমেলা ও ইফতার মাহফিলে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ২০০-এর অধিক সরকারি আইন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ জাহেদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হোসাইন মোঃ আশরাফ উদ্দিন।
এই আয়োজন সরকারি আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :