

এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু
সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে বলা হয়, “সাংবাদিক জাতির দর্পণ”—এই কথাটি একেবারেই সঠিক। কারণ সাংবাদিকদের কাজ হলো সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং জনগণের সামনে সত্য প্রকাশ করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা যে নিরপেক্ষতার আদর্শ ধারণ করে চলার কথা ছিল, তা অনেকাংশেই হারিয়ে গেছে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা না করে অনেক সাংবাদিক প্রশাসনের অনৈতিক কার্যকলাপের অংশীদার হয়ে গেছেন, সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে উল্টো সত্য প্রকাশকারী নবীন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।
সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব: সমস্যা ও সংকট
সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাব ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি একাধিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।
১. সদস্যপদ নিয়ে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা
নতুন সাংবাদিকদের সদস্যপদ না দেওয়া।
পুরাতন সদস্যরা নিজেদের সুবিধার্থে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করা।
যোগ্য সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধাভোগীদের সদস্যপদ প্রদান করা।
২. সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে বিচ্যুতি
সাংবাদিকরা যেখানে অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত হয়েছেন।
যারা সত্য প্রকাশ করছেন, তাদেরকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে।
অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকা সরকার এবং তাদের এমপি-চেয়ারম্যানদের পক্ষে তোষামোদ করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের কাজ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে অনেক সাংবাদিক প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করার পরিবর্তে তাদের দালালি করছেন। এটি শুধু সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সমস্যা নয়, বরং সারাদেশেই অনেক প্রেসক্লাবে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালা ও সংস্কার
সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে সংস্কার করা দরকার।
১. আজীবন সদস্যপদ ও পরিচয় ব্যবস্থাপনা
প্রেসক্লাবের প্রতিটি সদস্যের জন্য ইউনিক আইডি নম্বর থাকবে, যা তার পরিচয়ের প্রমাণ বহন করবে।
কেউ সদস্যপদ হারালে তার আইডি নম্বর বাতিল থাকবে, তবে তা অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না।
মৃত সদস্যদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
২. সাংবাদিকদের অধিকার ও দায়িত্ব
শুধুমাত্র সীতাকুণ্ডে সক্রিয় সাংবাদিকতা করছেন এমন ব্যক্তিদের সদস্যপদ দেওয়া হবে।
যারা প্রশাসনের অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, তাদের রক্ষা ও সহযোগিতা করা হবে।
যারা সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করবে বা সাংবাদিকতার মূল চেতনা বিসর্জন দেবে, তাদের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
৩. দাতা সদস্যদের সম্মান ও স্বীকৃতি
আমি, এডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন লাভলু, এবং আমার বড় ভাই লায়ন মোঃ শাহজাহান, আমরা দুজনই সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য। প্রেসক্লাবের উন্নয়নে আমাদের ৫ লক্ষ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, যার মাধ্যমে ক্লাবের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে—
আমাদেরকে সহ কোন দাতা সদস্যকে যথাযথভাবে সম্মানিত করা হয়নি।
কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
ক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবকে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আদর্শ সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নীতিমালা সংশোধন করতে হবে এবং সত্যিকারের সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দিতে হবে। অন্যথায়, এটি কেবল কিছু সুবিধাবাদী মানুষের ব্যক্তিগত লাভের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিলে প্রেসক্লাব তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
লেখক: এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর চট্টগ্রাম ও দাতা সদস্য সীতাকুন্ড প্রেস ক্লাব
আপনার মতামত লিখুন :