

১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জন্য এক গৌরবময় অধ্যায়ের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণ করে, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এই বিজয়ের পেছনে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবর্ণনীয় ত্যাগ এবং লক্ষ মানুষের আত্মাহুতি। বিজয় দিবস কেবল একটি দিন নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক।
এই ঐতিহাসিক দিনে, আন্তর্জাতিক সেবা সংগঠন লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি৪ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সিএলএফ কমপ্লেক্সে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কর্মসূচির শুরু হয় সকাল ৭:৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। আয়োজনে ছিল আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, হাসপাতালের তিন শতাধিক রোগীর মাঝে খাবার বিতরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান লায়ন ইঞ্জিঃ মুজিবুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন রিজিয়ন চেয়ারপার্সন লায়ন মোঃ আশিকুল আলম আশিক। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা গভর্নর লায়ন কোহিনুর কালাম এমজেএফ। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
আলোচনা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন ইঞ্জিঃ মুজিবুর রহমান, লায়ন কাজী মাহবুবুল আলম, লায়ন ডাঃ হাবিবুর রহমান, লায়ন সিরাজুল হক আনসারী এবং লায়ন রুপম কিশোর বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন বেলাল উদ্দিন চৌধুরী, জিএমটি লায়ন চন্দন দাশ এমজেএফ, জিএসটি লায়ন ডাঃ এস. এম. আবু জাকের, এলসিএফ কো-অর্ডিনেটর লায়ন মোঃ হুমায়ুন কবির, সিনিয়র গভর্নর এডভাইজার লায়ন মনোয়ারা বেগম এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের পর হাসপাতালের তিন শতাধিক রোগীর মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি৪-এর এই আয়োজন শুধু বিজয়ের আনন্দ উদযাপন নয়; এটি ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ।
১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় অহংকারের দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগের এই স্মৃতিবহ দিনটি শুধু উদযাপনের নয়, বরং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও উন্নয়নের শক্তি জোগানোর অনুপ্রেরণা। লায়ন্স জেলা ৩১৫ বি৪-এর এই আয়োজন বিজয় দিবসের তাৎপর্যকে আরও গভীরভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :