রক্তলাল কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে আইনজীবীরা


প্রকাশের সময় : মে ২৪, ২০২৩, ২:৪৩ অপরাহ্ণ / ৯৫২
রক্তলাল কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে আইনজীবীরা
Spread the love
মো.আলী আকবর
বন্দর নগরী  বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে রক্তলাল কৃষ্ণচুড়া। তপ্ত গ্রীষ্মের বার্তা নিয়ে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া। সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল রঙের কৃষ্ণচূড়ার অপূর্ব বাহারি দৃশ্য দেখে যে কোনো পথিকের দৃষ্টি কাড়বে বৈকি! কবি এস এম খায়রুল বাশার কৃষ্ণচূড়া নিয়ে কবিতা লিখেছেন- ‘কৃষ্ণচূড়া, লালে রাঙা আগুন ঝরা-প্রিয়ার খোপার ফুল। কৃষ্ণচূড়া, হাওয়ায় খেলা পাপড়ি দোলা-বঁধুর কানের দুল।’
‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি কর্নে-আমি ভূবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্নে’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার এমন পঙতি দিয়ে বোঝা যায় কতটা সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে দান করেছে!
এইতো কিছুদিন আগেও প্রকৃতি ছিলো রুক্ষ। বৈশাখে আগুন ঝরাচ্ছে আকাশ, কাঠফাটা রোদে তপ্ত বাতাস। প্রাণ ও প্রকৃতি যখন প্রখর রোদে পুড়ছে, কৃষ্ণচূড়া ফুল সৌন্দর্যের বার্তা নিয়ে আহবান করে সব পথিককে। গ্রীষ্মের এ প্রাণহীন রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরেছে যেন আপন মহিমায়। যেন রক্ত লাল রঙে পথে-প্রান্তরে, মাঠের ধারে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি।
সাধারণত এপ্রিল-জুনে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে থাকে। এ সময়টাতে গ্রীষ্মের প্রকৃতি চোখ ধাঁধানো টুকটুকে সিঁদুর লাল কৃষ্ণচূড়ায় সাজে। লাল- হলুদের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রেখেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কিছু প্রাঙ্গন।তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চট্টগ্রাম দায়রা আদালত ভবনের পশ্চিম দিকে দৃশ্য।
সরেজমিনে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ  আদালত ভবন (নতুন আদালত ভবন ) এর চতুর্থ তলার পশ্চিম দিকে  চোখ দিলে দেখা মিলে বেশ কয়েকটি  আগুনলাল কৃঞ্চচূড়ার গাছ। যার মনোরম দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে দু নয়ন ভরে এর অপরূপ শোভায় মনটা জুড়িয়ে গেল!। আর এই রকম অপরুপ সৌন্দর্য  প্রতিদিন শতশত আইনজীবী উপভোগ করছে। এই রক্তিম বৃহৎ পুষ্পমঞ্জরি সদৃশ্য আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া। এর অপরূপ দৃশ্য দেখে আইনজীবীদের প্রাণে আসে নতুন উদ্যম। অবাক চোখে তাকিয়ে যেকোনো আইনজীবী এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করবেই। তখন প্রতিটি মন ছুঁয়ে রঙিন হয়ে যায় কৃষ্ণচূড়ার রঙে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক পাঠাগার সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী  দৈনিক ঊনসত্তরকে বলেন কৃষ্ণচূড়ার রঙে দুই মাস লাল হয়ে থাকে চট্টগ্রাম আদাল নতুন আদালত ভবনের তৃতীয় চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশ।  বিগত ৪/৫ বছর ধরে অন্তত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত আমরা আইনজীবীরা এখানে এসে কৃষ্ণচূড়া ফুলের বিপরীতের ছবি তুলে মনের আনন্দ মেটাই।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক পাঠাগার সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম দৈনিক ঊনসত্তরকে বলেন, গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়া ফুল প্রকৃতি আমাদের উপহারস্বরূপ দিয়েছে। তবে প্রকৃতিকে সাজাতে আমাদেরও সবার এগিয়ে আসা উচিত। ছবি তুলতে আসা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডভোকেট মনজুরুল আযম চৌধুরী দৈনিক ঊনসত্তরকে বলেন, কূঞ্চচুড়া ফুল দেখতে খুব সুন্দর আর এই আদালত ভবন থেকে দেখতেও চমৎকার লাগে তাই কূঞ্চচড়া ফুলে নিজেকে ক্যামরা বন্দী করলাম। দৈনিক ঊনসত্তরের সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, আমার পছন্দের ফুলের মধ্যে অন্যতম হল কৃঞ্চচুড়া ফুল । আর এই আদালত ভবন এই ফুল দেখতে এক কথায় অসাধারণ। এই জায়গায় এসে সবাই ছবিও তোলে , পেশাগত ব্যস্ততার কারণে ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। আজ বৃষ্টির কারণে পেশাগত ব্যস্ততা কিছুটা কম থাকায় আমি ও বন্ধুদের সাথে ছবি তুললাম। এডভোকেট  শাহ ইমতিয়াজ রেজা চৌধুরী নিশান  দৈনিক ঊনসত্তরকে বলেন, একসময় কৃষ্ণচূড়া গাছ প্রকৃতিতে অনেক বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। কৃষ্ণচূড়া গাছের কাঠ তেমন গুরুত্ব বহন না করায় এবং গাছটি খুব ধীর গতিতে বেড়ে উঠায় এই গাছ রোপণে আগ্রহ নেই কারও। তবে এটি আমাদের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। l এডভোকেট সৈয়দ মোতাহের হোসেন তাসিব তার এফ আইডিতে আদালত ভবন থেকে কৃঞ্চচুড়া ফুলে ক্যামরা বন্দীর ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘কৃঞ্চচুড়া ফুলের প্রেমে আমরাও’। কৃঞ্চচুড়ার নয়ন জুড়ানো হাসিতে তোলা এডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুনের এফবিতে পোস্ট করা নিজের ছবিতে তিনি লিখেছেন ‘ সবুজের মাঝে কৃঞ্চচুড়ার রক্তিম লালের অনিন্দ্য সুন্দরের আকর্ষণে নীল আসমানের নিচে আমি ও ‘।
উল্লেখ্য যে কত বছর এই স্থানে প্রাকৃতিক দৃশ্য ধরনের ছবি কে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট শাহ আরমান এবং তিনি ছবির বিভিন্ন দিক , গুরুত্ব, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ১০ জনকে পুরস্কৃত করেন এবং তাদের তোলা ছবি প্রেমে বন্দি করে উপহার হিসেবে প্রদান করেন।
Translate »