

দাউদ রানা:
সিরাজগঞ্জের চৌহালী কৃষি অফিস যেন দুর্নীতির আখরায় পরিণত হয়েছে। নদীভাঙন কবলিত দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় একের পর এক ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে উত্তোলন করা হচ্ছে টাকা। প্রকল্পের মাস্টার রোলে রয়েছে একাধিক মৃত ব্যক্তির নাম। চলমান আধুনিক প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প পুরোটাই ভেস্তে গেছে। জানা যায়, জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন চৌহালী উপজেলার ৮০ ভাগ মানুষ নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বসবাস করে। তাদের অন্যতম প্রধান উপার্জন মাধ্যম কৃষি। হাল-চাষ আর ফসল ফলানোর মধ্যে দিয়ে চলে তাদের জীবন-জীবিকা। সরকার এই অঞ্চলে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ২০২০-২১ ও ২০২২ অর্থবছরে ৮ থেকে ১০টি প্রকল্প দেন বাস্তবায়নের জন্য। এর মধ্যে প্রকল্প সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, রাজস্ব প্রদর্শনী, মাঠ দিবস, এনএটিপি প্রকল্প, প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী রয়েছে। সেসঙ্গে রয়েছে সার ও বীজ সরবরাহ। যার জন্য বরাদ্দ হয় লাখ লাখ টাকা। এসব প্রকল্পের সিংহ ভাগ মাস্টার রোলই ভুয়া। এছাড়া যমুনার ভাঙন কিংবা বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকের জন্য যা কিছু বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়। এর বেশির ভাগই কৃষি অফিসারের পছন্দের কিংবা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিতরণ করা হয়। এদিকে বিতরণের জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রস্তুত মাস্টার রোলের তালিকায় থাকা অনেক মানুষ মারা গেছে কয়েক বছর আগে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কীভাবে মৃত মানুষ চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিল। তা হলে এসব প্রকল্পের টাকা গেল কোথায়। এমন অভিযোগ চরের বহু কৃষকের। অভিযোগের বিষয়ে চৌহালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেরিন আহম্মেদ জানান, প্রতিটি মাস্টাররোল তদন্ত করে দেখব। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। এদিকে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফসানা ইয়াসমিন জানান, মাস্টার রোলে মৃত ব্যক্তির নাম এটা কীভাবে সম্ভব। বিষয়টি খতিয়ে দেখে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাব। এ ব্যাপারে প্রথম দিকে কথা বলতে রাজি না হলেও সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, তালিকা ধরে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :