

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার নামার বাজার এলাকাধীন আমিরাবাদ গ্রামে (নামার বাজার ল্যাবরেটরির মসজিদের দক্ষিণ পাশে) অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই পুকুরটি এলাকার পরিবেশ রক্ষা ও জলাধার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রায় ১০০ বছর আগে খনন করা পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে আশেপাশের বাসিন্দাদের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক ছিল এবং বর্ষার পানি নিষ্কাশনের একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৫ শতক পুকুর ভরাট করে সেখানে দালান নির্মাণের চেষ্টা চলছে। তাঁরা জানান, “এই পুকুরটা আমাদের দাদারা ব্যবহার করতেন। এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখন ভরাট করে দালান তৈরি করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পুকুর, জলাশয়, খাল বা নদী ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারেন না। আইনের ৫ ধারা অনুসারে, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত কোনো জমির ব্যবহার পরিবর্তন বা হস্তান্তর বেআইনি। এই আইন ভঙ্গের দায়ে ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়াও, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, “প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট কেবল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।”
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক এবং যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
তাঁদের আহ্বান—এই ঐতিহ্যবাহী জলাধার রক্ষা করা হোক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ ও পানির প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষিত রাখা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :