মোহাম্মদ নাজিমুজ্জামান রাশেদ:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো গণধর্ষণের অভিযোগ। তবে পুলিশের তদন্ত এবং ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে নবম শ্রেণির ওই কিশোরী তাঁর ভাই, মামাতো ভাই ও এক বন্ধুর সঙ্গে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একদল যুবক তাঁদের পথরোধ করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক যুবক আরও তিনজন সহযোগীসহ কিশোরীকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।
ভিকটিম জানান, তাঁকে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন।
পুলিশের বক্তব্য
সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। তাঁর ভাই ও বন্ধুকেও উদ্ধার করা হয়। তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।"
ভিকটিমের মা মর্জিনা বলেন, "আমার মেয়ে ধর্ষিত হয়নি, তবে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।"
গুজব ও সতর্কবার্তা
ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা বলতে দেখা যায়। তবে পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়দের তদন্তে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক কিশোরীকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে।
এ বিষয়ে ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, "গণধর্ষণের ঘটনা ভিত্তিহীন। আমরা সংবাদকর্মীদের সামনে ভিকটিমের বক্তব্য নিয়েছি, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এরপরও আমরা আইন অনুযায়ী সব ধরনের তদন্ত করছি।"
স্থানীয়দের মতে, গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের গুজব ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে এবং সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।