মোহাম্মদ নাজিমুজ্জামান রাশেদ:
সীতাকুণ্ডে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ১৫ মার্চ ২০২৪ ইংরেজি তারিখ সীতাকুণ্ড পৌরসভা সভাকক্ষে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) সীতাকুণ্ড এই সভার আয়োজন করে। এটি ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিস) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহরম আলী। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাকের হোসেন, পৌর জামায়াতের সাবেক কাউন্সিলর রায়হান উদ্দিন, বাজার কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাহার, পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর শামসুল আলম আজাদ, বাসদের জসিম উদ্দিন, ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সভাপতি আবুল কাসেম, অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও দিশারী যুব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সালেহ আহমদ সলু, পিস অ্যাম্বাসেডর মাসুদা খায়ের, পিস অ্যাম্বাসেডর শামীম আক্তার লাভলী, ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সমন্বয়কারী ফরহাদ হোসাইন রিফাত, খেলাঘর সীতাকুণ্ড শাখার জাহেদুল ইসলাম বিটু, পিএফজি সদস্য এম এ কাইয়ুম সহ আরও অনেকে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহরম আলী বলেন, "সীতাকুণ্ডের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্প্রীতি ও শান্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীতাকুণ্ডকে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে।"
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব সালেহ আহমদ সলু বলেন, "সীতাকুণ্ডের নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে উন্নয়ন ও সম্প্রীতির জন্য কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে শান্তির জন্য ভূমিকা রাখতে হবে।"
পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর শামসুল আলম আজাদ বলেন, "সহিংসতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে সহনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।"
অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর ও দিশারী যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, "সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যদি ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে সহিংসতা কমিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য নাগরিক সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।"
সাবেক কাউন্সিলর ও সীতাকুণ্ড পৌরসভা জামাতের নেতা রায়হান উদ্দিন বলেন, "সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"
পিস অ্যাম্বাসেডর মাসুদা খায়ের বলেন, "নারী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে সমাজে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে। নারীদের সম্পৃক্ততা ছাড়া একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়।"
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড পিএফজির কো-অর্ডিনেটর নাছির উদ্দিন অনিক। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এফসি মাইনুল ইসলাম।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সীতাকুণ্ডকে সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। বক্তারা বলেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সহিংসতা রোধ করা সম্ভব। এজন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সম্প্রীতি ও শান্তির জন্য কাজ করতে হবে।
সভা শেষে উপস্থিত সবাই সীতাকুণ্ডকে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।