
বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, ২০১৭, শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহের কিছু পক্ষে যুক্তি এবং প্রাসঙ্গিক আইন ও উচ্চ আদালতের রায় বিভিন্ন দেশে আলোচনার বিষয়বস্তু।
আইন অনুযায়ী, মেয়েদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের জন্য ২১। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালতের অনুমতি এবং অভিভাবকের সম্মতিতে মেয়েদের ১৬ বছর বয়সেও বিবাহের সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রণীত।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ অনুমোদিত, কারণ এটি সামাজিক এবং নৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআন (সূরা আন-নিসা: ৪:৬) অনুযায়ী, বিবাহের পূর্বে মানসিক ও শারীরিক পরিপক্বতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। তবে বিভিন্ন মুসলিম দেশে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বাল্যবিবাহ অনৈতিক সম্পর্ক রোধে কার্যকর হতে পারে।
বাল্যবিবাহ ইসলামী অনুশাসন মেনে সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে।
দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে বাল্যবিবাহ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়ক।
বিভিন্ন দেশের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি
পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত কোর্ট রায় দিয়েছে যে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বাল্যবিবাহ বৈধ। তবে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ ইসলামবিরোধী নয় যদি এটি সমাজের মঙ্গলের জন্য প্রণীত হয়।
“The court declared that fixing a minimum age for marriage is not un-Islamic as long as it serves societal welfare."
সৌদি আরবে ১৭ বছরের নিচে মেয়েদের বিবাহে আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
“Under Saudi law, marriage below 17 requires court approval, ensuring the minor’s consent and safeguarding against exploitation."
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাল্যবিবাহকে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
“The Supreme Court of India ruled that child marriage violates fundamental rights and impacts child development."
যুক্তরাজ্যে ন্যূনতম বিবাহের বয়স ১৮।
“Marriage under the age of 18 is illegal in the UK to protect children’s mental and educational development."
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজ্যে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমতি লাগে।
“In the United States, marriage laws vary by state, but exceptions often require judicial approved.
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন, ২০১৭ সামাজিক উন্নয়ন এবং শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধর্মীয়, সামাজিক, এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে এই বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধানকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটি কিছুক্ষেত্রে সঠিক বলে বিবেচিত হতে পারে।
লেখক: